প্লাস্টিক সমস্যা নিয়ে স্তম্ভিত করা প্রতিবেদন প্রকাশ করলো সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই)
প্লাস্টিক সমস্যা নিয়ে স্তম্ভিত করা প্রতিবেদন প্রকাশ করলো সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই)
Center for Science and Environment (CSE) releases shocking report on plastic problem
২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের উৎপাদন ৭৯% শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের গ্রহে প্লাস্টিকের মোট ভর ধরলে সেটা এখনকার সমস্ত জীবিত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ভরের প্রায় দ্বিগুণ হবে। এবং এখনও পর্যন্ত উৎপাদিত এই সমস্ত প্লাস্টিকের প্রায় ৮০ শতাংশই পরিবেশে রয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথেও এই ঘটনার রয়েছে নিবিড় সংযোগ। গত চার দশকে প্লাস্টিক উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ শুধু প্লাস্টিক থেকে গ্রীনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমন বৈশ্বিক কার্বন মোট বাজেটের ১৫ শতাংশে পৌঁছে যাবে। আর সেটা হলে প্লাস্টিক শিল্প একাই পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী হবে। ভারত ২০১৮-১৯ সালে ১৮.৪৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটি) প্লাস্টিক ব্যবহার করেছে; এর ৫৯ শতাংশ প্যাকেজিংয়ে গেছে। এর মানে হল যে দেশে উৎপাদিত সমস্ত পেট্রোকেমিক্যালের (২৯.১ MMT), ৩৭ শতাংশের বেশি প্যাকেজিংয়ের জন্য প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে।
সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই) দ্বারা গত নভেম্বরে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে 'প্লাস্টিক সমস্যার' সর্বব্যাপী চরিত্রকে সহজে তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় গবেষণা থেকে স্তম্ভিত করে দেওয়া এই তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।প্রতিবেদনটি ‘দ্য প্লাস্টিক লাইফ সাইকেল’ শিরোনামের একটি জাতীয় সম্মেলনে মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পেশাদার, নগর ও শহর পরিকল্পনাবিদ, এনজিওর প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দিল্লীতে ইণ্ডিয়া হ্যাবিটেট সেন্টারে প্রকাশিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে, ডিরেক্টর জেনারেল সুনীতা নারায়ণ বলেন, “সাধারণভাবে আমাদের বোঝার সুবিধার্থে বলা হয় যে প্লাস্টিকের সমস্যাটি একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং উপাদান উৎপাদনের সমস্যা নয় কারণ আমরা এটিকে পুনর্ব্যবহার করতে পারি, পুড়িয়ে ফেলতে পারি এবং পুঁতে দিতে পারি অথবা যে দেশে এটির ব্যবস্থাপনা সম্ভব সেখানে পাঠাতে পারি। বিষয়টি কিন্তু অতটা সহজ নয়। বর্তমানে আমরা প্লাস্টিক উৎপাদন ও ব্যবহারের ধরণের দিক দিয়ে প্লাস্টিকের শেষ সীমান্ত অতিক্রম করেছি। প্লাস্টিক দূর হয়নি। আমরা স্থলভাগে যে প্লাস্টিক উৎপন্ন করি তা এখন আমাদের সমুদ্রকেও গ্রাস করছে এবং সেখান থেকে এবং অন্যসব জায়গা থেকে আমাদের নিজেদের দেহতে এসে মিশেছে।” প্রতিবেদন প্রকাশ করে, কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব লীনানন্দন উল্লেখ করেছেন, যে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আসলেই একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়, তবে এটি এমন কিছু নয় যা সমাধান করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে, একক-ব্যবহারের প্লাস্টিকে নিষেধাজ্ঞা, উৎপাদকের বর্ধিত দায়িত্ব-র মতো নীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের কু-প্রভাব প্রশমিত করার প্রচেষ্টা জোর পেয়েছে। প্রতিবেদনের পিছনে যুক্তি উপস্থাপন করে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের অতীন বিশ্বাস, বলেছেন: “আসন্ন বছরগুলো প্লাস্টিক বর্জ্যের এই বিশাল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার উপায় নির্ধারণের জন্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। রাজ্য সরকার, ইউএলবি এবং অন্যান্য অংশীদারদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা একটি প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত জাতি হিসাবে সফল হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷ তাই শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বেই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল নির্ধারণ করতে প্লাস্টিকের জীবনচক্র বোঝা অপরিহার্য"।
Comments
Post a Comment